আলোকের সুবিন্যস্থ ব্যতিচার সৃষ্টি জন্য নিম্নের কোন শর্তটি প্রয়োজনীয় নয়?

Updated: 1 week ago
  • আলোক উৎস দুটি সুসঙ্গত হতে হবে
  • আলোক তরঙ্গ দুইটির কম্পাঙ্ক সমান হবে
  • আলোক তরঙ্গ দুইটি বিপরীত দিক সঞ্চালিত হবে
  • আলোক তরঙ্গ দুইটি এক রঙের উৎস হতে সঞ্চালিত হবে
526
ব্যাখ্যাঃ

আলোর ব্যতিচার (Interference of light) হলো এমন একটি ঘটনা যেখানে একই উৎস থেকে উৎপন্ন দুটি আলোক তরঙ্গ একত্রিত হয়ে কিছু স্থানে আলোর তীব্রতা বৃদ্ধি করে (গঠনমূলক ব্যতিচার) এবং কিছু স্থানে আলোর তীব্রতা হ্রাস করে (ধ্বংসাত্মক ব্যতিচার)। সুবিন্যস্ত বা স্থায়ী ব্যতিচার প্যাটার্ন (Sustained Interference Pattern) পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক।

স্থায়ী ব্যতিচারের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলী:

        
  • আলোক উৎস দুটি সুসঙ্গত হতে হবে (Coherent Sources): দুটি আলোক উৎসের মধ্যে দশা পার্থক্য (Phase Difference) সময়ের সাথে সুনির্দিষ্ট ও স্থির থাকতে হবে। এটি নিশ্চিত করে যে তরঙ্গগুলো একে অপরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ইন্টারফেয়ার করবে। একই উৎস থেকে দুটি গৌণ উৎস তৈরি করার মাধ্যমে এটি অর্জন করা যায়।
  •     
  • আলোক তরঙ্গ দুইটির কম্পাঙ্ক সমান হবে (Equal Frequency): সুসঙ্গত হওয়ার জন্য তরঙ্গ দুটির কম্পাঙ্ক অবশ্যই সমান হতে হবে। যদি কম্পাঙ্ক সমান না হয়, তাহলে দশা পার্থক্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হবে এবং কোনো স্থায়ী ব্যতিচার প্যাটার্ন তৈরি হবে না। যেহেতু কম্পাঙ্ক এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য (wavelength) একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত (\(c = f\lambda\)), তাই কম্পাঙ্ক সমান হওয়া মানে তরঙ্গদৈর্ঘ্যও সমান হওয়া।
  •     
  • আলোক তরঙ্গ দুইটি এক রঙের উৎস হতে সঞ্চালিত হবে (Monochromatic Source): এক রঙের উৎস মানে হলো আলোক তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বা কম্পাঙ্ক একটি নির্দিষ্ট মান থাকবে। এটি নিশ্চিত করে যে উৎস দুটি সুসঙ্গত হবে এবং তাদের কম্পাঙ্ক সমান থাকবে, যা স্থায়ী ব্যতিচারের জন্য অপরিহার্য। সাদা আলো ব্যবহার করলে বিভিন্ন রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের জন্য বিভিন্ন ব্যতিচার প্যাটার্ন তৈরি হয় যা একে অপরের উপর আপতিত হয়ে অস্পষ্ট প্যাটার্ন তৈরি করে।
  •     
  • উৎস দুটি কাছাকাছি হতে হবে এবং তাদের প্রস্থ ছোট হতে হবে।
  •     
  • পর্দার দূরত্ব উৎস থেকে উপযুক্ত হতে হবে।

এখন অপশনগুলো বিশ্লেষণ করা যাক:

        
  • 1. আলোক উৎস দুটি সুসঙ্গত হতে হবে: এটি স্থায়ী ব্যতিচারের জন্য একটি মৌলিক ও অপরিহার্য শর্ত।
  •     
  • 2. আলোক তরঙ্গ দুইটির কম্পাঙ্ক সমান হবে: সুসঙ্গত উৎসের একটি বৈশিষ্ট্য হলো তাদের কম্পাঙ্ক সমান হওয়া। এটিও অপরিহার্য।
  •     
  • 4. আলোক তরঙ্গ দুইটি এক রঙের উৎস হতে সঞ্চালিত হবে: এক রঙের উৎস ব্যবহার করলে তরঙ্গদৈর্ঘ্য নির্দিষ্ট থাকে, যা সুসঙ্গততা ও কম্পাঙ্ক সমান রাখার জন্য জরুরি। এটিও অপরিহার্য।
  •     
  • 3. আলোক তরঙ্গ দুইটি বিপরীত দিক সঞ্চালিত হবে: সাধারণত, ব্যতিচার প্যাটার্ন তৈরির জন্য আলোক তরঙ্গগুলো প্রায় একই দিকে সঞ্চালিত হয় এবং একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সুপারপোজিশন হয়। যদি তরঙ্গগুলো পুরোপুরি বিপরীত দিকে সঞ্চালিত হয়, তাহলে স্থিত তরঙ্গ (Standing Wave) তৈরি হতে পারে, যা সুবিন্যস্ত ব্যতিচার প্যাটার্নের (যেমন ইয়ং-এর দ্বি-চির পরীক্ষার মতো) শর্ত নয়। তাই, এটি ব্যতিচার সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত নয় বরং সুনির্দিষ্ট ব্যতিচার প্যাটার্ন তৈরির জন্য অনুকূল নয়।

সুতরাং, আলোক তরঙ্গের সুবিন্যস্ত ব্যতিচার সৃষ্টির জন্য আলোক তরঙ্গ দুইটি বিপরীত দিকে সঞ্চালিত হওয়া শর্তটি প্রয়োজনীয় নয়।

Satt AI
Satt AI
2 months ago

 সুসঙ্গত উৎস (Coherent Source

দুটি উৎস থেকে সমদশায় বা কোনো নির্দিষ্ট দশা পার্থক্যের একই তরঙ্গদৈর্ঘ্যের দুটি আলোক তরঙ্গ নিঃসৃত হলে তাদের সুসঙ্গত উৎস বলে ।

সাধারণভাবে দুটি আলাদা আলোক উৎসকে সুসঙ্গত উৎস হিসেবে গণ্য করা যায় না, কেননা যে কোনো একটি উৎসের পরমাণু কর্তৃক নিঃসৃত আলোক তরঙ্গ অন্য উৎসের ওপর কোনোভাবেই নির্ভর করে না। তাই দুটি ভিন্ন উৎস থেকে নির্গত দুটি আলাদা আলোক তরঙ্গ একটি নির্দিষ্ট দশা সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে না। আলোর ব্যতিচার সংক্রান্ত পরীক্ষা নিরীক্ষায় সাধারণত একটি উৎস থেকে নির্গত আলোকে দুটি অংশে এমনভাবে বিভক্ত করা হয় যেন প্রতিটি বিভক্ত অংশকেই একটি স্বতন্ত্র উৎস হিসেবে গণ্য করা যায়। ফলে এই দুটি বিভক্ত অংশকে দুটি সুসঙ্গত উৎস হিসেবে বিবেচনা করা যায়। আলোক তরঙ্গকে দুটি সরু পথে বা চিরের (slit) মধ্য দিয়ে যেতে দিয়ে একটি উৎস থেকে দুটি সুসঙ্গত উৎস তৈরি করা যায়।

কোনো স্থানে দুই বা ততোধিক আলোক তরঙ্গের উপরিপাতনের ফলে আলোর তীব্রতা তথা আলোক শক্তির পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর ব্যতিচার বলা হয়। দুটি উৎস থেকে নির্গত অভিন্ন দুটি তরঙ্গ (অর্থাৎ একই তরঙ্গদৈর্ঘ্য তথা কম্পাঙ্ক ও বিস্তারবিশিষ্ট দুটি তরঙ্গ) কোনো বিন্দুতে একে অপরের ওপর আপতিত হলে ঐ বিন্দুতে লব্ধি তীব্রতা যে কোনো একটি তরঙ্গের তীব্রতার চেয়ে বেশি বা কম হতে পারে। এই ঘটনাই তরঙ্গের ব্যতিচার । যখন লব্ধি তীব্রতা আলাদা আলাদা তরঙ্গের তীব্রতার চেয়ে বেশি হয় তখন তাকে গঠনমূলক ব্যতিচার আর যদি লব্ধি তীব্রতা আলাদা আলাদা তীব্রতার চেয়ে কম হয় তাকে ধ্বংসাত্মক ব্যতিচার বলে ।

   দুটি সুসঙ্গত উৎস থেকে নিঃসৃত দুটি আলোক তরঙ্গের উপরিপাতনের ফলে কোনো বিন্দুর আলোক তীব্রতা বৃদ্ধি পায় আবার কোনো বিন্দুর তীব্রতা হ্রাস পায়। এর ফলে কোনো তলে পর্যায়ক্রমে আলোকোজ্জ্বল ও অন্ধকার অবস্থার সৃষ্টি হয়। কোনো স্থানে বিন্দু থেকে বিন্দুতে আলোর তীব্রতার এই পর্যায়ক্রমিক তারতম্যকে আলোর ব্যতিচার বলে।

ধরা যাক, একই বিস্তার ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য তথা কম্পাঙ্কবিশিষ্ট দুটি আলোক তরঙ্গ একই রেখা বরাবর কোনো স্থানে অগ্রসর হচ্ছে। কোনো বিন্দুতে তরঙ্গদ্বয় একই দশায় পৌঁছালে (অর্থাৎ ঐ বিন্দুতে উভয় তরঙ্গের তরঙ্গ চূড়া বা তরঙ্গ খাঁজ আপতিত হলে) ঐ বিন্দুতে লব্ধি বিস্তার তরঙ্গদ্বয়ের বিস্তারের সমষ্টির সমান হবে। অপরপক্ষে, কোনো বিন্দুতে তরঙ্গদ্বয় যদি বিপরীত দশায় মিলিত হয় (অর্থাৎ ঐ বিন্দুতে একটি তরঙ্গের তরঙ্গ চূড়া অপর তরঙ্গের তরঙ্গ খাঁজের সাথে মিলিত হয়) তবে ঐ বিন্দুর লব্ধি বিস্তার শূন্য হবে। যেহেতু আলোর তীব্রতা বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক সেহেতু প্রথমোক্ত বিন্দুতে তীব্রতার মান বেড়ে যাবে এবং শেষোক্ত বিন্দুতে এই মান শূন্য হবে। এর ফলে ঐ স্থানের কোনো তলে পরপর আলোকোজ্জ্বল ও অন্ধকার অবস্থার সৃষ্টি হয় অর্থাৎ ব্যতিচার হয়।

গঠনমূলক ব্যতিচার (Constructive Interference) : দুটি উৎস থেকে নিঃসৃত কিন্তু একই তরঙ্গদৈর্ঘ্য এবং সমান বা প্রায় সমান বিস্তার বিশিষ্ট দুটি আলোক তরঙ্গের উপরিপাতনের ফলে কোনো বিন্দুর ঔজ্জ্বল্য বেড়ে গেলে অর্থাৎ আলোক তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে তাকে গঠনমূলক ব্যতিচার বলে।

ধ্বংসাত্মক ব্যতিচার (Destructive Interference) : দুটি উৎস থেকে নিঃসৃত কিন্তু একই তরঙ্গদৈর্ঘ্য এবং সমান বা প্রায় সমান বিস্তারবিশিষ্ট দুটি আলোক তরঙ্গের উপরিপাতনের ফলে কোনো বিন্দু অন্ধকার বা প্রায় অন্ধকার হয়ে গেলে তাকে ধ্বংসাত্মক ব্যতিচার বলে।

ব্যতিচারের শর্ত :

১। আলোর উৎস দুটি সুসঙ্গত হতে হবে।

২। যে দুটি তরঙ্গ ব্যতিচার ঘটাবে তাদের বিস্তার সমান বা প্রায় সমান হতে হবে।

৩। উৎসগুলো খুব কাছাকাছি অবস্থিত হতে হবে।

৪। উৎসগুলো খুব সূক্ষ্ম হতে হবে।

চির বা স্লিট (Slit) : দৈর্ঘ্যের তুলনায় খুবই ক্ষুদ্র প্রস্থবিশিষ্ট আয়তাকার সরু ছিদ্রকে চির বলে। ব্যতিচারের জন্য চিরের প্রস্থ আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রমের হতে হয় । 

ব্যতিচার ঝালর (Interference Fringe) : 

 কোনো তলের বা পর্দার ওপর আলোর ব্যতিচার ঘটানো হলে সেখানে অনেকগুলো পরপর সমান্তরাল উজ্জ্বল আলোক রেখা বা পট্টি (band) এবং অন্ধকার রেখা বা পট্টি পাওয়া যায় । এই আলোকিত ও অন্ধকার ডোরাগুলোকে (fringe) ব্যতিচার ঝালর বলে ।

Related Question

View All
  • অপবর্তন
  • সমাবর্তন
  • ব্যতিচার
  • প্রতিসরণ
102
  • বিচ্ছুরণ
  • সমবর্তন
  • ব্যতিচার
  • অপবর্তন
120
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই